২০১৪ সালে একবার শোনা গিয়েছিল বিএনপিকে দেওয়া এক অদ্ভুত ‘বিদেশি’ প্রস্তাবের কথা। যেখানে তারেক রহমানকে নয়, দলের চেয়ারপারসন হিসেবে একজন নারীকে চেয়েছিল ওই ‘শক্তি’। কিন্তু কে হবেন তিনি? তিনি ছিলেন জুবাইদা রহমান। বিদুষী এই নারী উচ্চশিক্ষিত এবং দলের কাছে গ্রহণযোগ্যও হবেন বলে বিশ্বাস ছিল ‘তাদের’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনায় কোনো পক্ষই একমত হতে পারেনি। পক্ষ তখন অনেকগুলো।

খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন অবস্থায় তারেক রহমান যখন জানালেন, তাঁর ফেরাটা সহজ নয়, তখন বুঝতে আর বাকি থাকে না যে — কিছু একটা ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। যদিও তাঁর রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা, দেশের মামলাগুলো নিয়ে জটিলতা ও তাঁর ওপর নির্যাতনকারীদের একটি পক্ষ এখনও সক্রিয় থাকা, সব মিলিয়ে অঙ্কটা সরল নাও হতে পারে।
আশপাশের দেশগুলোতে অনেক কিছু হয়ে গেল। মিয়ানমার তেতে আছে; শ্রীলঙ্কা, নেপালে গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষত শুকিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানে কারারুদ্ধ বিরোধীদলের নেতা ইমরান খানের মৃত্যুর গুঞ্জন শোনা গেল, ঘটনা সত্যি হলে দেশটার সরকারের জন্য সেটা এক অশনি সংকেত। এদিকে বাংলাদেশের সদ্য বিদায় নেওয়া দলটির পক্ষ থেকে গত রাত থেকে নতুন করে জানানো হচ্ছে পুরাতন তত্ব — মাইনাস টু সাগা!
অটো মাইনাস টু তো হতেই পারে। বয়স্ক লোক দিয়ে আর কতকাল? শুধু বিএনপি বা আ. লীগ নয়, জামায়াতে ইসলাম, হেফাজতে ইসলামসহ যত পলিটিকাল পার্টি এখন বাংলাদেশে সক্রিয়, তাদের প্রত্যেকের তরুণ নেতাদের সামনে আনা প্রয়োজন। কারণ রিটায়ারমেন্টের বয়সে যখন উপদেষ্টা হওয়ার সময়, তখন নির্বাহী হিসেবে দল চালানো সম্ভব নয়। তা ছাড়া পুরাতন যে পদ্ধতিতে এতকাল দল চালানো হয়েছে, সেই ব্যবস্থা জারি থাকলে এখনকার স্মার্ট ভোটাররা সেটা মানবে না।

বড় দুটি দলের ক্ষেত্রে যা হতে পারে বলে অনেকে বিশ্বাস করেন:
লন্ডভণ্ড আ. লীগের নেতৃত্বে আসতে পারে তাজউদ্দিন পরিবারের কেউ। আপাতত তারা দলটাকে টেনে নিয়ে গেলেও নির্বাচনে জেতার মৌসুম এলে আবারও দলের প্রধান দায়িত্ব নেবেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ফর শিওর। বিএনপির ক্ষেত্রেও সে রকম জুবাইদা রহমান যদি দলের নেতৃত্ব দেন, দলটি নতুন পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হবে, তবে সামনে জাইমা রহমানকে নতুন নেতৃত্বে দেখতে হবে বলে অনেকে মনে করছেন।
গণ-অভ্যুত্থান থেকে সৃষ্টি নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টিকে যেতে হবে অনেক দূর। তাদের দায়িত্ব অনেক। দুই থেকে তিন আসন নিয়ে শুরু হওয়াটা মন্দ নয়। কিন্তু এরই মধ্যে দলটির যথেষ্ট ড্যামেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পর যোদ্ধা ও মুজিববাহিনীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ বিকল্প ধারার লেখক-গবেষকদের লেখা থেকে পাওয়া যায়, এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে ততটা পাওয়া যায় না। তবে এনসিপিকে অনেক খাটতে হবে। আরও ডেডিকেটেড, চৌকস, স্মার্ট, জনবান্ধব নেতা দরকার হবে তাদের। দরকার হবে আরও নানান রকম কাজ, প্রভাব যা জনস্বার্থে যায়।