দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে এক বিস্ফোরক ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম)। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১৬ই ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।
দেশ রক্ষার আহ্বান: নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বর্তমান সরকারকে ‘দেশ ধ্বংসের কারিগর’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “ইউনূস গংদের হাত থেকে দেশ রক্ষা করতে হলে উন্নয়নের কারিগর জননেত্রী শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। আজ দেশকে যে খাদে ফেলা হয়েছে, তা থেকে উদ্ধার করতে শেখ হাসিনাকে বাংলার মাটিতে ফিরিয়ে আনতেই হবে।”

১৬ ডিসেম্বরের ডেডলাইন: মায়া তাঁর বক্তব্যে এক সুনির্দিষ্ট সময়ের উল্লেখ করে বলেন, “আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের মধ্যেই শেখ হাসিনাকে সাথে নিয়ে আমরা বাংলাদেশে ফিরব। এটি আমাদের অঙ্গীকার।” তাঁর এই ঘোষণায় তৃণমূল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
উন্নয়ন বনাম ধ্বংসের রাজনীতি: বীর বিক্রম মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া তাঁর বক্তব্যে বিগত সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন এবং দাবি করেন যে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়ন আজ হুমকির মুখে। তিনি মনে করেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাজপথের লড়াইয়ের মাধ্যমেই শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা হবে।
তৃণমূলের প্রস্তুতি: মায়ার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। “লড়াই চলবে”, “বিজয় সুনিশ্চিত” এবং “১৬ ডিসেম্বর হবে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন”—এমন স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো। দলীয় সূত্রমতে, এই ঘোষণা কর্মীদের ঝিমিয়ে পড়া মনোবল চাঙ্গা করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মতো একজন জ্যেষ্ঠ ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার এই ঘোষণা রাজপথের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৬ই ডিসেম্বরকে লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগ কোনো বড় ধরণের রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে কি না, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা কৌতূহল ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।