বাউল নিপীড়ন প্রসঙ্গেঃ
জারি সারি লালন যাত্রাপালা মানে পারলে নিত্য গীতসহ সকল কিছুই ওরা উপড়ে ফেলতে চায়। মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙ্গালিয়ানা মুছে দিতে ওরা বদ্ধপরিকর। যাত্রা মঞ্চের বন্দনা গীত মনে পরে আপনাদের? “এক নদী রক্ত পেড়িয়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা, তোমাদের এই ঋণ কোন দিন শোধ হবে না, না না না শোধ হবে না”। যা কোটি বাঙ্গালির হৃদয়ে আজ-ও অনুরণন তোলে।
যাত্রাপালা ধ্বংসের সময়কালটা খুবই মনে পরে। কি ভাবে বাংগালী সংস্কৃতির প্রবাহমান ধারায় শত্রুপক্ষ তাদের প্রথম ষড়যন্ত্রের বাঁধ নির্মাণ করেছিল। কৌশলি পদক্ষেপ হিসাবে প্রথমে তারা যাত্রাপালায় শিল্পীদের পিছনে বিনিয়োগ শুরু করে। পরবর্তীতে নিজেরাই পালার মালিক বনে যায়। জনসাধারণের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার জন্য তারা যাত্রায় অশ্লীলতা আমদানি করে। এরপর যাত্রা বিমুখ করার লক্ষ্যে সর্বশেষ যাত্রা মঞ্চে বোমাবাজি করে। এটি ছিল আমাদের আবহমান কালের বাংগালী সংস্কৃতির উপর স্বাধীন দেশে প্রথম আঘাত। আমি আমার পূর্বসুরিদের বলছি, আপনারা সহ্য করলেন আর আমাদেরকেও সহ্য করতে বাধ্য করেছিলেন।
বাউল ভাইয়েরাঃ
আপনারা প্রেমময় উদার এবং মানবিক সমাজের জন্ম দিতে চান। আর তৌহিদী জনতার নামে ওরা সমাজ রাষ্ট্রে উগ্র জঙ্গিবাদের চাষাবাদ করতে চায়। চিন্তায় চেতনায় আপনাদের সাথে তাদের এখানেই হাজার মাইলের পার্থক্য। আপনারা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ালে ওদের এদেশে যায়গা থাকে না। এখন আপনারাই নির্ধারণ করুন এদেশে কারা থাকবে? আপনারা না ধর্মের লেবাসে তৌহিদী জনতা?
ওরা যুক্তি মানে না। কথায় কথায় ওরা ধর্ম অবমাননার অযুহাত তুলে মানুষকে হত্যা করতে চায়। ওরা ঠুনকো অজুহাতে সমাজের শান্তি বিনষ্টকারী। ওরা দেশি বিদেশি অনেকের স্বার্থে সমাজ রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা জারি রাখতে চায়। ওরা ধর্মের লেবাসধারী মানবতার শত্রু।
শুরু থেকেই ফতোয়াবাজ কাঠমোল্লা এবং হিন্দু পুরোহিত গন লালনের জীবনাচার এবং তার জীবন দর্শনের ঘোর বিরোধী ছিল।
যুক্তিহীন ফতোয়াবাজ, ধর্মান্ধ, ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী যুগে যুগে কালে কালে ধর্মের টুটি টিপে ধরে অধর্মের অসার সমাজে সকলের মাথার উপর ছড়ি ঘোরাতে চায়।
লেখক কবি মীর মোশারফ এবং কাংগাল হরিনাথ রায় লালন ফকিরের সাথে সাক্ষাৎ করে বলেছিলেন, জগত সংসারে আপনাদেরকে পছন্দের যেমন মানুষ আছে তেমনি অপছন্দের মানুষের কিন্তু অভাব নেই। এবং এই অপছন্দের মানুষেরা আপনাদের ক্ষতি করতে চায়। ওদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষার ন্যূনতম প্রস্তুতি আপনাদের থাকা উচিত। আপনাদের ফকির সন্যাসী বাউল দর্শন রক্ষায় প্রয়োজনে হাতিয়ার চালানোর চর্চা থাকা জরুরি বলেই মনে করি।
চলমান পরিস্থিতির কারণে দেশের ফকির সন্যাসী বাউলদের প্রতি আমার আহবানঃতৌহিদী জনতার নামে ওরা আপনাদের উপর যে নিপীড়ন করছে এর জবাব আপনাদেরকে একই ভাষাতেই দিতে হবে। কারণ আত্মরক্ষা কোন সন্ত্রাস নয়।
সময়ের প্রয়োজনে হাতের একতারা দোতারা এবং লাঠি সাদৃশ্য আশা হবে উগ্র জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আপনাদের লড়াইয়ের হাতিয়ার।