এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুসলিম লীগের সভাপতি।
দাবি করেছেন, চুক্তির কারণে এখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে পণ্য কেনা যাবে না।
বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সক্ষমতা, লোডশেডিং ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও কড়া সমালোচনা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (ইউনূস সরকার) বাংলাদেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুসলিম লীগের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ। একটি সংবাদমাধ্যমের টক শোতে অংশ নিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, চুক্তি ও বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘মানচিত্র’ নামের ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মোহসিন রশীদ দেশের বর্তমান সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্ব কতটুকু আছে, দেশের স্বাধীনতা কতটুকু আছে, আমি জানি না। কারণ, ইউনূস সরকার দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কথিত একটি চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী দাবি করেন, এই চুক্তির কারণে আমেরিকা ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে এখন আর কিছুই করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘গম থেকে শুরু করে তেল এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম—সবকিছুই এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিতে হবে।’ সংকটের এ সময়ে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব বর্তমান সরকার ফিরিয়ে দিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সক্ষমতা নিয়েও অনুষ্ঠানে প্রশ্ন তোলেন মোহসিন রশীদ। তিনি বলেন, বর্তমান ক্যাবিনেটে এমন কোনো বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ লোক নেই, যাঁদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো যোগাযোগ আছে বা যাঁরা দেশের জন্য বড় আকারের তহবিল সংগ্রহ করতে পারবেন।
একই সঙ্গে দেশে চলমান লোডশেডিং, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময়কার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় সরকার নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বা খাওয়ার অভাব ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ যখন অতীত ও বর্তমানের তুলনা করবে, তখন তারা রাস্তায় নেমে আসতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
এছাড়া, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুসলিম লীগের এই সভাপতি বলেন, এই অদৃশ্য শক্তির খেলা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা খুবই কঠিন। দেশে অস্থিরতা তৈরি হলে রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে বলেও মনে করেন।