কুড়িগ্রাম জেলাধীন চর রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় -১ ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনের সম্মুখীন হলে পশ্চিম পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্হানান্তরিত হয়। সেখানে শংকর মাধবপুরের ৮০% জনবসতি গড়ে উঠেছে এবং তারাবর, ভেলামারী সহ আরও অনেক মৌজার লোকজন বসবাস করছে।
বিদ্যালয়টি স্হানান্তর হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম একা একা যথারীতি ০৬ টি শ্রেণীতে পাঠদান দিয়েছেন বলে জানান। পরবর্তী সময়ে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকরা পাঠদান দিতে না গেলে অসহায় হয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। ফলে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠে আসে।

অসহায় কমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে বর্তমানে ৭ জন সেচ্ছাসেবক দ্বারা পাঠদান দিয়ে আসছেন এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ও চর অঞ্চলীয় শিক্ষার্থীদের অবজ্ঞা করে উপজেলা শিক্ষা কমিটি সিদ্ধান্ত দিয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব প্রান্তে বিদ্যালয় স্থাপন করার। তিনি আরো বলেন, সহকারি শিক্ষকদের বড় সমস্যা পশ্চিম পাড়ে পাঠদান করলে সকালের প্রাইভেট ও বিকালের কোচিং সেন্টারে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। এই কারণে তারা উঠে পড়ে লেগেছে নদের পূর্ব প্রান্তে বিদ্যালয়টি স্থাপন করার জন্য।
উপজেলা শিক্ষা কমিটি যে স্থানে বিদ্যালয়টি স্থাপন করার জন্য সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তার ৩ কিঃ মিঃ এর মধ্যে যেখানে ৭ থেকে ৮ টি বিদ্যালয় অবস্থিত আছে এবং আশপাশে ২ কিঃ মিঃ মধ্যে ৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে।
যেমনঃ ১. মদনের চর, ২.ভেলামারী, ৩. শংকর মাধবপুর–২, ৪.সাজাই নতুন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত।
সহকারি শিক্ষকদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধার্থে বিদ্যালয়টি নদের পূর্ব প্রান্তে আনার পরিকল্পনা অব্যাহত রেখেছে।
এ বিষয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাত হোসেনের নিকট জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমি উপজেলা শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু বলতে পারছিনা। তবে মানুষ ভুল করতে পারে আবার শোধরাতেও পারে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন এবং সিদ্ধান্ত নিবেন। বিদ্যালয়ের ঘর যেখানে আছে সেখানে একটি বিদ্যালয় দরকার।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, আমি আগামীকাল আসছি। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, আমার সিদ্ধান্ত যেটা তা পুর্বেই দিয়ে দিয়েছি। নতুন করে আর কিছু বলতে পারবো না।
অসহায় ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো থেকে যেন বঞ্চিত না হয় ও বিদ্যালয়টি ব্রম্মপুত্র নদের পশ্চিম পার্শ্বে রেখে চলমান সমস্যা সংকট নিরসন হয় সে লক্ষ্যে পুনরায় বিষয় টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সু দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।