1. tradeworldltdbd@gmail.com : M. A-A MAMUN SOHAAG : SARA AFIYA
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
শেখ হাসিনার পতন ও সামরিক বাহিনীর নীরব অভ্যুত্থান: নেপথ্যের অজানা অধ্যায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ক্যাপ্টেন তারেক রহমান ওয়াশিংটনে দুই দেশের আলোচনা || রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ ওয়ান-ইলেভেনের নেপথ্যে ‘সমন্বিত কুচক্রী’ একের পর এক প্লট সাজানো হয় অন্ধকারে ছিল তৎকালীন সরকার ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের গ্রেপ্তার পুলিশ হত্যার বিচার হবে, বললেন আইজিপি শহীদ মিনারের ব্যতিক্রমী ঘটনা রাষ্ট্রপতির বিদায়ের বার্তা? গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা লোপাট মাদুরো বুঝেন !! হাসিনা বুঝেননা হাদিকে খুনের জন্যই ফয়সালকে জামিনে বের করা হয়

তারেক রহমানের ফেরা না ফেরা: উত্তরের আড়ালে লুকানো প্রশ্ন

দৈনিক নতুন আলো ডেস্ক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

মা শয্যাশায়ী, ছেলে প্রবাস থেকে ফিরতে পারছেন না—যে কোনো সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। কিন্তু তারেক রহমান তো একজন সাধারণ নাগরিক নন।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও তারেক রহমানের দেশে না ফেরা নিয়ে বিএনপির ভেতরে-বাইরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ এবং সারা দেশ তার জন্য উদ্বিগ্ন। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, বিএনপির মহাসচিব সবাই তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তার রোগমুক্তির প্রার্থনায় সারাদেশ ঐক্যবদ্ধ।

খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির চেয়ারপারসন নন, তিনি বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। তার রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি আমাদের রাজনীতিতে ভদ্রতা, সংযম ও পরিমিত আচরণের প্রতীক। অস্থির বাক্যবাণ ব্যবহার করা বা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করা তিনি কখনো পছন্দ করতেন না বললে অত্যুক্তি হবে না। বাংলাদেশের রাজনীতিকে একটুখানি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন যারা, তাদের জানা আছে, খালেদা জিয়া নীরবে সইয়ে গেছেন বহু প্রতিকূল পরিস্থিতি।

সাম্প্রতিককালে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছিলেন, অসুস্থতায়ে যার ছন্দপতন ঘটল। তার প্রতি মান্যতা ও শ্রদ্ধা সব মহলেই ছড়িয়ে আছে। দলীয় রাজনীতি নিয়ে সক্রিয় বক্তব্য দেওয়া তিনি অনেক বছর আগে থেকে কমিয়ে দিয়েছেন, বলা চলে ছেড়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব মহলে তার অমায়িক ও পরিশীলিত ব্যবহার সমানভাবে প্রশংসিত। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও তাকে বহু ক্ষেত্রে সম্মান জানিয়ে আসছেন। মাত্র কয়েক দিন আগে দুজন সেনানিবাসে একান্তে বসে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। যারা তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিলেন, তাদের মধ্যেও অনেকেই তাকে পছন্দ করেন।

তারেকের দেশে ফেরার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় নিশ্চয়ই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তার পরিবার; বিশেষ করে তার সন্তানদের মধ্যে যিনি এখন একমাত্র জীবিত—তার বড় ছেলে তারেক রহমান। মায়ের অসুস্থতায় তিনি স্বাভাবিকভাবেই খুব দুঃখিত ও বিপর্যস্ত। এই সময়ে মায়ের পাশে থাকার আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতি তিনি ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে প্রকাশ করেছেন।

লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান ওই পোস্টে বলেন, “এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহস্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য সবের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীনও নয়।”

তার এই পোস্টকে অনেকেই অনেকভাবে বিশ্লেষণ করবেন। তারেক রহমান হয়তো এই সময়ে দেশে না আসতে পারার কারণটা জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারেক রহমানের ওই পোস্ট তার দেশে না ফেরা নিয়ে যতটুকু উত্তর দিয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

কোথায় যেন একটা প্রতিবন্ধকতা, কোথায় যেন একটা দ্বন্দ্ব ও বাধা আছে, যার জন্য তিনি দেশে আসতে পারছেন না, জানাতেও পারছেন না আসতে না পারার অদৃশ্য কারণ। মা শয্যাশায়ী, ছেলে প্রবাস থেকে ফিরতে পারছেন না—যে কোনো সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলা, জানতে চাওয়া অবান্তর। কিন্তু তারেক রহমান তো একজন সাধারণ নাগরিক নন। তিনি একজন পাবলিক ফিগার এবং রাজনৈতিক নেতা। তিনি খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকারী। তিনি এখন বিএনপির শীর্ষ নেতা। তার ফিরতে না পারা বিএনপিকে সংকটের মুখে ফেলছে। সুতরাং সবার মনে এই প্রশ্নটা আনাগোনা করছে—প্রতিবন্ধকতা কোথায়? কেন তিনি একক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না? তার সিদ্ধান্ত কিসের ওপর কিংবা কার বা কাদের ওপর নির্ভরশীল?

বাংলাদেশ সরকারের কি কোনো নির্দেশ বা বাধা-নিষেধ আছে? দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বাধার ইঙ্গিত তারেক রহমান তার পোস্টে দেওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, “তারেক রহমান দেশে আসতে চাইলে এক দিনে তাকে ‘ট্রাভেল পাস’ দেওয়া সম্ভব।” তাছাড়া বাংলাদেশের কোর্টে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে সব মামলা ছিল সেগুলো নিষ্পত্তি বা খারিজ হয়ে গেছে।

তাই প্রশ্নটা এখনও ঝুলে আছে—তাহলে বাধাটা কোথায়?

খালেদা জিয়ার অবস্থা নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে মনে হবে কেউ কেউ বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করার ওপর জোর দিচ্ছেন; আবার অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা স্পষ্টভাবে বলছেন, এখন বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা তার নেই। অবশ্য বিএনপির সবাই চিকিৎসক বোর্ডের ওপর ব্যাপারটা ছেড়ে দিয়েছেন এবং চাইছেন—তিনি একটু সুস্থ হলে যেন ভালো চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যেতে পারেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে পরিবারের। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কাতার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তার বক্তব্য শুনে অনেকেই হয়তো ভাববেন—বেগম জিয়াকে যদি লন্ডনেই নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে তারেক রহমানের আর দেশে আসার প্রয়োজন কী?

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই মুহূর্তে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই তার।

চিকিৎসা, কূটনীতি ও বক্তৃতা

খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় দেশে–বিদেশে অনেকেই অনেকভাবে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন। চীন সরকার ঘোষণা করেছে, তারা একদল চিকিৎসক পাঠাবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সহযোগিতা করার জন্য। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে তাকে চিঠি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চিঠিটি বিএনপির ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে পোস্ট করা হয়েছে।

এনসিপির একজন তরুণ নেতা রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পর মন্তব্য করেছেন, “আল্লাহ যেন হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত বেগম জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন।” এই ধরনের কথাবার্তা ঠিক বেগম জিয়ার এই সন্ধিক্ষণের উপযুক্ত মনে হয়নি। হাসিনার পলায়নের পর বেগম জিয়া তাকে নিয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি। তাছাড়া বেগম জিয়া বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক অবদান রাখতে পারবেন; অনেক দিন পর বাংলাদেশে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে পারবেন—যার জন্য তিনি এত বছর সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু হাসিনার ফাঁসি দেখার জন্য তিনি কতটা উৎসাহী হবেন—তার উত্তর যারা বেগম জিয়াকে ভালোভাবে চেনেন, তারা সহজেই বলে দিতে পারবেন।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তবে যেহেতু তাকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, এ জন্য বিএনপি চাইলে কমিশনের কাছে নির্বাচন কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করতে পারে।”

ভেতর ও বাইরের চাপে বিএনপি

এমনিতে নির্বাচনের মাত্র দুই মাস বাকি। কিন্তু তারেক রহমান কেন দেশে আসছেন না, তা নিয়ে বিএনপি অনেক চাপের মধ্যে রয়েছে। অনেকবার তার দেশে ফেরার ঘোষণা করা হয়েছিল; প্রতিবারই তা পিছানো হয়েছে। সর্বশেষ ধারণা করা হচ্ছিল, ১৬ ডিসেম্বরের আগে তিনি দেশে ফিরে আসবেন।

তারেক রহমানের নিজ পোস্টে দেশে আসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তার ‘অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’ জেনে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী নিরাশ ও বিভ্রান্ত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সবসময় এইসব ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতেন; তাকে গত কিছুদিন কোনো কথা বলতে শোনা যায়নি। যারা বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী, তারা খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময়েও তারেক রহমানের দেশে ফিরতে না পারা নিয়ে তেমন কোনো প্রশ্ন তুলছেন না। তবে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, এই প্রশ্নটা আরও সামনে চলে আসবে—কেন তিনি স্বাধীন নন এবং কেন এটা তার একার নিয়ন্ত্রণে নেই? তারেক রহমান যত দ্রুত সম্ভব এই প্রশ্নটার একটি সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়ে নিস্পত্তি করতে পারবেন, ততই তার জন্য ও বিএনপির জন্য মঙ্গল।

বেগম জিয়া যদি কিছুটা সুস্থ না হন, এমনিতেই বিএনপিকে অনেক বেশি সমস্যা মোকাবেলা করতে হতে পারে। তাকে তিনটি আসনে নির্বাচনের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তাছাড়া বিএনপির যে কোনো অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে তার এক অঙ্গুলি হেলনেই অনেক কাজ হয়। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের সম্পর্ক ঠিক রাখার প্রধান নিয়ামক হলেন খালেদা জিয়া। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও চলনশীল সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে খালেদা জিয়া বিরাট ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই এখনই বলে রাখা যায়—খালেদা জিয়ার অবর্তমানে বিএনপির রাজনীতি বড় ধাক্কা খাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

𝑫𝒂𝒊𝒏𝒊𝒌 𝑵𝒐𝒕𝒖𝒏 𝑨𝒍𝒐꧂

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

Theme Customized BY TRADEWORLDLTD