মানিকগঞ্জে পাসপোর্ট করতে আসা এক রোহিঙ্গা তরুণীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা। এ সময় আটক করা হয়েছে এক দালালকেও।
রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তার তাকেসহ এক দালালকে আটক করেন।
আটক তরুণী নাম হুমায়রা (১৬)। বাবার নাম হামিদুল্লাহ। তার রোহিঙ্গা আইডি নম্বর ১৫৫২০১৭১২২৪১১৫৪৫৯।
আটক দালালের নাম আবু তাহের (২২)। তিনি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার গোয়াইলমারা গ্রামের বাসিন্দা।
মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ বলেন, জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চরচান্দহর গ্রামের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে এক তরুণী পাসপোর্টের আবেদন করেন।
আবেদনে তার নাম দেয়া হয় তাসনিম বেগম, পিতার নাম দেয়া হয় মো. খলিলুর রহমান। তিনি জন্ম সনদ, বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র ও চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সনদপত্র দেন। কিন্তু তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে তার আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করে দেখা যায় তিনি রোহিঙ্গা হিসেবে নিবন্ধিত।
নাহিদ নেওয়াজ আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী স্বীকার করেছেন তিনি রোহিঙ্গা। পরে ওই তাকে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশে সোপর্দ এবং মামলা হয়েছে।
জানা যায়, আবু তাহেরের সহযোগিতায় সিঙ্গাইর এলাকার এরশাদ নামে এক দালালের মাধ্যমে এক লাখ টাকা চুক্তিতে পাসপোর্ট করতে আসেন ওই তরুণী। এজন্য এরশাদকে অগ্রিম দেয়া হয় ৬০ হাজার টাকা। তবে পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের হাতে ওই নারী আটক হওয়ার পর সটকে পড়েন দালাল এরশাদ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাসপোর্টের আবেদনে ওই নারী সিঙ্গাইরের চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বাদল স্বাক্ষরিত একটি সনদ ও সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করা জন্মসনদ জমা দেন।
জানতে চাইলে চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বাদল বলেন, এটা একটা জাল সনদ। ওই সনদে যে স্বাক্ষর রয়েছে সেটা আমার নয়। যে তারিখ দেয়া আছে ওই তারিখে আমি কোনো সনদ দেইনি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রউফ সরকার বলেন, পাসপোর্ট অফিস থেকে মামলা হওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।