যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আব্দুল জব্বার নামে এক ফাঁসির আসামিকে ব্লেড দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে অপর এক ফাঁসির আসামি। পরে গুরুতর অবস্থায় আব্দুল জব্বারকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গাঁজা সেবনে বিরোধিতা করায় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আব্দুল জব্বার। তবে এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের পরিষ্কার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ১৬ নম্বর সেলের ২নং কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুল জব্বার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার অভয়ডাঙ্গা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তার কয়েদী নং- ১৩১৬/এ ও হাসপাতালে ভর্তি টিকিট নং- ৪৮৬৪৬/৩০।
কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি দিনভর গোপন রাখলেও সন্ধ্যার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।
হাসপাতালে কঠোর নজরদারিতে থাকা আহত জব্বার জানান, তিনি ফাঁসির আসামি। পাঁচ বছর দুই মাস আগে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আসেন। কারাগারের ১৬নং সেলের ২নং কক্ষে থাকেন। ৫নং সেলে থাকে পলাশ নামে অপর একজন ফাঁসির আসমি দিনের অধিকাংশ সময় গাঁজা খায়। গাঁজার গন্ধ সহ্য করতে না পেরে কয়েকদিন প্রতিবাদ করেন তিনি। সর্বশেষ তিনদিন আগে পলাশ তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
বুধবার সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে ধারলো কিছু দিয়ে মুখ, নাক এবং মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে কারা পুলিশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালের আরএমও (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, জব্বার নামে কারাগার থেকে আসা এক রোগীর মাথা, কপাল ও কানের অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে (ব্লেড জাতীয়) আঘাত করা হয়েছে। তাকে ১২টার বেশি সেলাই দেয়া হয়েছে। ৭২ ঘণ্টা না যাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলারসহ কর্মকর্তাদের কাছে ফোন করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ডিআইজি প্রিজন সগির মিয়া জানান, তিনি ঢাকায় আছেন। এ ঘটনায় জড়িত ও দায়িত্ব অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
যশোর জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি শুনেছি একজন কয়েদীকে অপর একজন কয়েদী ভাঙ্গা প্লেট দিয়ে মেরেছে। তাকে তিনটি সেলাই দেয়া হয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হবে।’