কথিত এক মুক্তিযোদ্ধার পুত্র ও পুত্রবধূ এলাকায় খুলেছে মাদক ব্যবসার দোকান। মুক্তিযোদ্ধার ক্ষমতা বলে সরকারি বেসরকারী জমি, খাস জমি দখল করে বস্তি তৈরিতে মরিয়া। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার বিরুদ্ধে ঠুকে দেয় কোর্টে মামলা।

রাজধানীর রূপনগর এলাকা ঘনবসতি ও নিম্ম-আয়ের মানুষের বসবাস হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাং ও পুলিশের সোর্স কাম মাদক ব্যবসায়ীরা।
সুত্র বলছে, ডিএমপির রুপনগর থানাধীন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে মাদক বানিজ্য করে চলেছে। অভিযোগ রয়েছে মাদক (ইয়াবা ট্যাবলেট) এর ক্রয় ও বিক্রের মূল হোতা কথিত মুক্তিযোদ্ধা পুত্র আল আমিন।
জানাগেছে, রূপনগর থানার সমালোচিত এসআই মাসুদের বিশ্বস্ত সোর্স বলেও এলাকায় চাউর রয়েছে।
সুত্র বলছে, কথিত মুক্তিযোদ্ধার পুত্র পুলিশের সোর্স আল আমিন রূপনগর এলাকাসহ মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে মাদকের গোপন বাজারে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কার কত পিস্ লাগবে ক্যাশ অন-ডেলিভারীতে মাদক পৌছে দিচ্ছে।
আলামিনের বাবা তোফাজ্জল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদপত্র তৈরি করে কাগজপত্রের ফটোকপি জমা দিয়েছেন রূপনগর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংগঠনে। জালিয়াতি ধরা পরে সেখান থেকে বহিস্কৃত হয়েছন বহু আগে। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে চলা তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে এ নিয়ে রূপনগর এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা।

বহিষ্কারের আগে তাকে মুক্তিযোদ্ধার মূল সঠিক কাগজপত্র দেখিয়ে ফটোকপি জমা দেওয়ার বিষয়ে বলা হলে তিনি সভায় সবার সম্মুখে বলেন, আমার মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র সরকারি গেজেট নাই, আমি সরকারি তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা হই নাই তবে জোড়ালো ভাবে মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্র তৈরি করতে বিভিন্ন তদবির চলাইতেছি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাগন বলেন, তোফাজ্জল হোসেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধায় অংশ নিলে আমরা তো কিছু হলেও জানতাম। তার বয়স ছিলো কত তখন? সে কোনো দিনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলোনা। মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি ভাবে বিভিন্ন ভাতা ঈদ বোনাস ও বিভিন্ন সহযোগিতা করছে সেটা দেখে লোভে পড়ে সে নিজে মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্র তৈরি করতে বিভিন্ন স্থানে ধর্না দিচ্ছে।
কথিত মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে আইনের মারপেঁচে ফেলে মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহার করে সরকারি বেসরকারি জমি দখল ও বিভিন্ন জমির কাগজপত্র ব্যবহার করে কোটি টাকা মুল্যের জমি নিজ কব্জায় রেখেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দগন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা না, আমি অরিজিনাল মুক্তিযোদ্ধা, আমি মুক্তিযোদ্ধার সকল সনদ ঠিকঠাক করতেছি। আমাকে কেউ ভুয়া বললে আমি মামলা করে দিবো।

জমির বিষয়ে বলেন, এই জমি দখল করিনি, আমি ক্রয় করেছি। আপনার নামে কাগজ আছে-কি? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, স্ট্যাম্পে লিখিত আছে এই জমি আমি ভোগ-দখলসহ চাইলে বিক্রি ও করতে পারবো। সেই স্ট্যাম্প আছে? জানতে চাইলে বলেন, হ্যাঁ-আছে, আমার ঘরে আসেন দেখাবো। ঘরে গেলে তিনি স্ট্যাম্প আর দেখাতে না পেরে মুক্তিযোদ্ধার সেই জমা দেওয়া ভুয়া বিভিন্ন কাগজপত্র দেখানো শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, কথিত মুক্তিযোদ্ধার পুত্র আলামিন ও তার স্ত্রী চাঁদনী মাদক ব্যবসা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে। এমন একটি অডিও কল রেকর্ড এ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে।

অডিও-তে, আলামিন বলছে, মামা? ফোনের ওপাশ থেকে বলছে, এখন তো খাওন দরকার চার’টে-লাগবে। আলামিন বলছে, মামা আপনি যান-একা যান, আমি চাঁদনীরে ফোন দিয়ে কইয়া দিতাছি। ফোনের ওপাশ থেকে বলা হচ্ছে শোন- ভালো-ডি দিতে কইছস, এক হাজার টাকার নোট দিতাছি, দুইশো টাকা ফেরত দিতে কইছস। আলামিন বলছে; ওর কাছে দুইশো টাকা আছে কিনা, আপনি দিইয়েন আমি আপনাকে দিবনি, আর আমি ওইখানে আইছি যেখানে ওই যে এগারো হাজার টাকার পু*কি মারা খাইছি। ওপাশ থেকে বলছে, আচ্ছা ঠিক আছে কর তুই চাঁদনীরে কইয়া দে আমি যাইতাছি।
★সকল কথোপকথন ও প্রমাণদি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত★