বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদকে অবৈধ সংসদ এবং সরকারকে অবৈধ সরকার হিসেবে উল্লেখ করে বক্তৃতা দেন। দেশের একজন বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেনন নিজে বর্তমান সংসদের সদস্য। তার দল বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক।
রাশেদ খান মেনন ১৪ দলের শরীক হিসেবে বিগত সংসদে মন্ত্রীও ছিলেন। ২০১৮ সালে বরিশালের উজিরপুরে ওয়াকার্স পার্টির একটি সম্মেলনে তিনি হঠাৎ গর্জে উঠে বললেন, দেশের জনগণ ভোট দিতে পারেনি, আমি নিজেও ভোট ছাড়া নির্বাচিত হয়েছি, প্রধানমন্ত্রীও তেমনভাবে হয়েছেন।
এখন আবার হঠাৎ করে সরকার বিরোধী রাজনীতিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএ কাদের ও দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। এরা দু’জনই বিগত সংসদে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গঠিত মহাজোটের শরিক আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রী ছিলেন।
সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সংলাপে গিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, বিগত নির্বাচনে রাতে ভোট হয়েছে। এবং তারা এটা করিয়েছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তার মানে মুজিবুল হক চুন্নুর ভাষায়ও বর্তমান সংসদ বৈধ নয়, কোন এমপি ভোটে নির্বাচিত হননি।
রাশেদ খান মেনন, মুজিবুল হক চুন্নু এবং রুমিন ফারহান তিনজনই বর্তমান সংসদের সদস্য। তারা নিয়মিত সংসদে যান,কথা বলেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে সুবিধা নেন, গাড়িতে সংসদ সদস্যর স্টিকার ব্যবহার করেন এবং ভাতা গ্রহন করেন।
বিএনপির রুমিন ফারহান তো রয়েছেন আরো একধাপ এগিয়ে, তার ভাষায় অবৈধ সংসদে বসে সংসদকে অবৈধ বলেন, আবার সেই অবৈধ সংসদের এমপি হিসেবে সরকারের মন্ত্রীর কাছে বাড়ি নির্মান করার জন্য প্লটের জন্য আবেদন করেন। এটাকে কি বলা যায়, দ্বিচারিতা নাকি রাজনীতিতে রুচির দুর্ভিক্ষ।